April 15, 2026, 5:54 am

সংবাদ শিরোনাম
অধিকার না ব্যবসা? ট্রেড ইউনিয়ন নিবন্ধনের অন্ধকার অর্থনীতি রেস্টুরেন্ট, ভবন, আর অদৃশ্য টাকা: এক কর্মকর্তার সম্পদের নীরব বিস্তার জুলাই সনদ বাস্তবায়ন নিয়ে প্রশ্ন: রংপুরে ১১ দলের বিক্ষোভ দিনাজপুর বধির ইনস্টিটিউটে শিক্ষার্থীদের মাঝে উৎসবের আমেজ ছড়িয়ে দিতে নতুন পোশাক বিতরণ সাড়ে চার কোটি বিনিয়োগ নথি ঠিক, অদৃশ্য উৎস–আয়ের শেষ গন্তব্য কোথায়? রংপুরে রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ আত্মীয়ের বাসা থেকে সাড়ে চার কোটির ছায়া: নথি ঠিক, উৎস অদৃশ্য নিজের অপরাধ আড়াল করতে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে অপপ্রচারের অভিযোগ মেইন রাস্তার ধুলো নয়, নীরব বিষ: রংপুরে তামাক ক্রাসিংয়ের অবৈধ বিস্তার রংপুরে হামের ছায়া: সংখ্যা নয়, গল্পগুলোই বলছে আসল কথা

গাজীপুরে নামধারী হাঁতুড়ে ডাক্তারের ভুল ইনজেকশনে রোগীর মৃত্যুদশা

গাজীপুরে নামধারী হাঁতুড়ে ডাক্তারের ভুল ইনজেকশনে রোগীর মৃত্যুদশা

mostbet

নিজস্ব প্রতিবেদক

গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের ৩২ নং ওয়ার্ডের ডেগেরচালা রোডের আল মদিনা নামক ঔষধ ফার্মেসীতে ভূয়া ডাক্তার মোঃ মাইদুল ইসলামের ভুল চিকিৎসার কারণে সিপন নামক এক ব্যক্তি গুরুতর অসুস্থ।

ঘটনা স্থলে গিয়ে জানা যায় সিপন (২৫) নামক এক ব্যক্তি হঠাৎ অসুস্থ হওয়ায় তার পরিবার তাকে আল মদিনা নামক ঔষধ ফার্মেসীতে নিয়ে যায়।

ভুয়া ডাক্তার মাইদুল ইসলাম তাকে ভূল ইনজেকশন দেয়, কিছুক্ষণ পর সিপন (রোগী) আরো বেশি অসুস্থ হয়ে পরে। এই ব্যাপারে ডাঃ মাইদুল ইসলমের সাথে কথা বলে জানা যায়, সে সঠিক চিকিৎসা দিয়েছে কে বা কারা আমার সুনাম ক্ষুন্য করার জন্য এসব করছে। রোগী মোঃ সিপনের সাথে কথা বলে জানা যায়, সে শুধু পেট ব্যথা এবং মাথা ব্যথার জন্য ডাক্তারের কাছে গিয়েছিলেন। যাওয়ার সাথে সাথে ডাঃ মাইদুল ইসলাম তাকে ম্যাক্সপ্রো এবং রোলাক নামক দুইটি ইনজেকশন দিয়ে আরো কিছু ঔষধ লিখে দেয়।

এরই আলোকে গাজীপুর জেলার অলিগলিতে ঘুরে দেখা মিলে হাজারও ভূয়া ডাক্তার ও প্রয়োজনীয় কাগজ পত্র ব্যতীত ফার্মেসী। রং বেরঙ্গের সাইনবোর্ড টানিয়ে সাধারণ জনগণের মাথার গাম পায়ে ফেলানো অর্থ হাতিয়ে নিয়ে পকেট ভারী করছে এক দল ভূয়া ডাক্তার ও অসাধু ফার্মেসীর ঔষধ বিক্রেতারা। সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায় কিছু অসাধু মানুষ অর্থের লোভে এই ব্যবসায় লিপ্ত হয়েছে। যাদের নেই কোন শিক্ষাগত যোগ্যতা, নেই কোন ডাক্তারি সনদ। আর আজ তারাই সাধারণ মানুষকে বোকা বানিয়ে সেবা করার নামে মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নিয়ে ভূয়া ডাক্তারি ও নকল ঔষধ বিক্রি করে যাচ্ছে।

গাজীপুর একটি বহুমূখী শিল্প নগরী, যেখানে বহিরাগত গরীব অসহায় মানুষেরা এসে জীবিকা নির্বাহের তাগিদে বিভিন্ন গার্মেন্টস কলকারখানায় কাজ করে সংসার চালায়। বিশেষ করে গার্মেন্টস শ্রমিকরা সারাদিন অক্লান্ত হাড়ভাঙ্গা পরিশ্রমের পর প্রায়ই অসুস্থ হয়ে পরে। আর এই সুযোগটাই কাজে লাগিয়ে দেয় এই ডাক্তার নামের অসাধু ফার্মেসী ঔষধ বিক্রেতারা। অধিকাংশ গার্মেন্টস শ্রমিকরা জানেনা বা বুঝে না কোন রোগের জন্য কোন ডাক্তার দেখাতে হবে। তাদেরকে বেশী লাভজনক নিষিদ্ধ ঘোষিত ঔষধ কোম্পানীর ঔষধগুলো দিয়ে সেবার নামে ঠেলে দিচ্ছে মরণব্যাদি রোগ হওয়ার সম্ভাবনায়। যা মানুষের শরীরের জন্য খুব ক্ষতিকারক ঔষধ। অতিলাভজনক হওয়ার কারণে বিভিন্ন ঔষধ দোকানিরা এক এক সময় এক এক রকম কৌশল অবলম্বন করে তা বাজারজাত করে থাকে।

গাজীপুরের কিছু ঔষধ বিক্রেতা ভূয়া হাতুরে ডাক্তারের সাথে কথা বলে জানা যায় তারা শুধু সিটি কর্পোরেশনের অনুমতি নামক ট্রেড লাইসেন্স দিয়ে প্রতিদিন ঔষধ বিক্রি করছে লক্ষ লক্ষ টাকার। প্রয়োজন পরে না তাদের কোন ডাক্তারের প্রেসক্রিপশন। তাদের নেই, ফার্মাসিস্ট লাইসেন্স, ডিয়ালিং লাইসেন্স আর যারা নামের আগে ডাঃ বসিয়ে বড় অক্ষরে সাইনবোর্ড কিংবা ভিজিটিং কার্ডে এবং নামের পরে বিভিন্ন বড় বড় পদ লাগিয়ে ভেজাল ঔষধ গুলো বাজার জাত করছেন। মূলত তাদেরও সর্বনম্নএম,এল,এ, এফ (RMP) সনদপত্র পর্যন্ত নেই। আর যাদের আছে যেগুলো আবার বড় অংকের টাকার মাধ্যমে কোন না কোন পল্লী চিকিৎসার প্রশিক্ষণ কেন্দ্র থেকে জালিয়াতির মাধ্যমে নেওয়া হয়েছে। অধিকাংশ এম,এল,এ, এফ প্রশিক্ষণ কেন্দ্রগুলো কোন প্রকার প্রশিক্ষণ ছাড়াই টাকার মাধ্যমে এই সনদ প্রদান করে থাকেন।

যৌন উত্তেজক ঔষধ বিক্রি করে নষ্ট করে দিচ্ছে দেশের যুব সমাজ। যা দেখেও না দেখার ভান করে সরকারি অফিসে অনায়াসে সময় পার করছে ঔষধ প্রসাসনিক কর্মকর্তারা। আজ মাঠ পর্যায়ে খোজ খবর রাখছেন না তারা। আর এর জন্যই দুখে দুখে মরতে হচ্ছে প্রতারনার শিকার হতে হচ্ছে। এই দেশের লক্ষ লক্ষ মেহনতি গরীব দুখি অসহায় মানুষগুলো। সৃষ্টিকর্তার পরে মানবদেহ কে যারা বাচিঁয়ে রাখার চেষ্টা করে থাকেন তাদের এই সুন্দর ডাঃ পদবিটাকে আজ যারা কলংকিত করছে তারা কি আইনের উর্দ্ধে কেউ?

আমাদের দেশের সাধারণ মানুষ কি এই ভূয়া ডাক্তারের হাত থেকে রেহাই পাবে না?

জানতে চাই গাজীপুরের সকল ভূক্তভোগী জনগণ সহ সারা বাংলাদেশের মানুষ। বর্তমানে এল, এম, এ এফ,/ (RMP) সর্টকোর্স করে অনায়াসে ডাক্তার লিখছেন এবং নির্দিষ্ঠ ভিজিটের বিনিময়ে সিরিয়ালের মাধ্যমে রোগী দেখেন, যাদের কোন ডাক্তার লেখার এক্তিয়ার নেই সরজমিনে গিয়ে আরও জানা যায় গাজীপুর জেলার অনেক এলাকায় নামে বেনামে ডায়াগনষ্টিক সেন্টার গুলোতে চলছে টেস্ট নামের ভয়াবহ প্রতারণার ফাঁদ। ৮০% ফার্মেসী ফার্মেসিষ্ট, ড্রাগ লাইসেন্স নেই। সারা বাংলাদেশের ফার্মেসীর সংখ্যা ১১,৪৫,০০০ নতুন করে আবেদন করেছেন ১৯,০০০ হাজার (কম বেশী)।

২০১৩ সালের পরিসংখ্যান অনুযায়ী সারা বাংলাদেশের মধ্যে প্রায় ৬৭,০০০ ফার্মেসী ফার্মেসীষ্ট ও ড্রাগ লাইসেন্স আছে। আর বাকী গুলো লাইসেন্স বিহীন, নাম মাত্র ট্রেড লাইসেন্স নির্ভর ব্যবসা করে যাচ্ছে। এহেন অবস্থা চলতে থাকলে ঔষধ শিল্প অদুর ভবিষ্যতে মারাতœক হুমকির সম্মুখীন হবে বলে মনে করেন সংশ্লিষ্ঠ বিষয়ে অভিজ্ঞগণ।

নি¤েœ কিছু ভুয়া ডাক্তার ও অসাধু ঔষধ বিক্রেতার নাম দেওয়া হল।

১.   কুমিল্লা ফার্মেসী, ডাঃ খোরশেদ আলম, মালেকের বাড়ী।

২.   ইউনুুস মেডিসিন কর্ণার, ডাঃ ফয়সাল মোল্লা, হারিকেন ফ্যাক্টরী রোড, মেজর সুপার মার্কেট, শরিফপুর,

৩.   মা ফার্মেসী ডাঃ সুজন, মালেকের বাড়ী।

৪.   আব্দুল্লা ফার্মেসী, ডাঃ হারুন অর রশিদ, মালেকের বাড়ী।

৫.   বিসমিল্লাহ ফার্মেসী, ডাঃ মামুন, মালেকের বাড়ী।

৬.   বিসমিল্লাহ হারবাল, ডাঃ লিয়াকত, মালেকের বাড়ী।

৭.   মৃধা ফার্মেসী, ডাঃ মিজান, মালেকের বাড়ী।

৮.   শেখ ফরিদ ফার্মেসী, ডাঃ ফরিদ উদ্দন, মালেকের বাড়ী।

৯.   শেউলিন ফার্মেসী, ডাঃ কাজী শামীম, মালেকের বাড়ী।

১০.  বরিশাল ফার্মেসী, ডেগের চালা।

১১.  কলি মেডিকেল হল, ডাঃ নাসির, হারিকেন।

১২.   ময়মনসিংহ মেডিকেল, ডাঃ ইমরান, হারিকেন।

১৩.  সাকিব ফার্মেসী, ডাঃ কাশেম, হারিকেন।

১৪.   আল ফাহাদ ফার্মেসী, ডাঃ ফাহাদ, পূর্বাচল রোড, হারিকেন।

Share Button

     এ জাতীয় আরো খবর